আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ উস্তায,
আমি লং টাইমের জন্য বাবার বাড়িতে এসেছি। আমাদের বিয়ের এক বছর হয়েছে। আমি এখন তার সন্তানের মা হতে চলেছি আলহামদুলিল্লাহ। বাবার বাড়িতে ডেলিভারির ইচ্ছে ছিলো, তাই আসা। এখন আমার স্বামীর সাথে আমার দূরত্ব অনুভব হচ্ছে, যদিও আমি তাকে অনেক মিস করি।
আমরা যখন দুইজন একই বাসায় থাকি আমার তখন ভালো সময় কাটে। তিনি দ্বীন মেনে চলার চেষ্টা করেন, আমলের দিক থেকে ভালো আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু তিনি বিবাহিত জীবন, পরিবার, স্ত্রী-সন্তান এসব ব্যাপারে কেমন জ্ঞানী তা জানিনা, আর তাছাড়া এটা মানুষের অভিজ্ঞতারও বিষয়। বিবাহিত জীবন অভিজ্ঞরা ছাড়া কেউ বুঝে না।
আমার স্বামী সবদিক থেকে বুঝদার হলেও তিনি প্রায়ই অনলাইনে নারী ফিতনা থেকে নিজেকে হিফাজত করতে পারেন না। গায়রে মাহরাম নারী মেসেজ দিলে গায়রতহীন কথাবার্তাও হয়ে যায়। আমি রাগ করি, কষ্ট পাই, পরে আবার মন শক্ত করে বুঝানোরও চেষ্টা করি।
আমি দূরে থাকলে, অর্থাৎ বাবার বাড়িতে আসলে তিনি আমার সাথে যোগাযোগ করেন না, আমার খোঁজ খবর নেন না। কল তো দূরের কথা, মেসেজও দেন না। আমি নিজে থেকে নক করলে উত্তর দেন। আমি জানি, তিনি ব্যস্ত থাকেন সারাদিন। কিন্তু আমি তবুও উনার একটা মেসেজের অপেক্ষাও করি। বর্তমানে আমার বাবা বাইক এক্সিডেন্ট করেছেন। তিনি আসতে পারবেন না ব্যস্ততা এবং দূরত্বের জন্য তা মানলাম। কিন্তু কল করেও একটা খোঁজ নেননি, আমার নিজেকে লজ্জিত লাগছে এজন্য। এছাড়া আমাকেও আপডেট জিজ্ঞেস করেন না, স্বান্তনা দেন না। এজন্য এবার মনে মনে রাগ করে আমিও মেসেজ দিই না।
প্রথমদিকে আমাদের দুজনের সম্পর্ক সুন্দর ছিলো। কাছে বা দূরে, সকল অবস্থায়ই একে অপরকে সময় দেয়া হতো। এখন সেটা হচ্ছে না। অথচ মানসিকভাবে আমার এখন বেশি দরকার।
এখন আবার তিনি চাচ্ছেন মাসনা করতে। আমার কোনো বাঁধা নাই, আল্লাহ তো বাঁধা দেয়ার অধিকার দেননি। কিন্তু আমি চাইনা তিনি এখনই মাসনা করুন। কেননা, আমাদের নিজেদেরই এখনো সংসার শুরু হয়নি, সন্তান আসবে দুনিয়াতে। একটা সন্তানের দায়িত্ব কেমন হয় তাও আমরা দুজন এখনো জানিনা। তারউপর আমি নিজেও উনার উপর থেকে মানসিক ভরসা হারিয়ে ফেলেছি, আরেকটা স্ত্রী এসে কতটুকু ভরসা করতে পারবে উনাকে!! সত্যি বলতে, মন থেকে বললে, আমি বলবো উনি আমার কাছে উত্তম স্বামীর সংজ্ঞায় পড়েন না, আমিও পারিনি হয়তো উত্তম স্ত্রী হতে। কারণ আমিও সংসার জীবনে ভুল করেছি। তবে আমি উনার কাছে ক্ষমা চেয়েছি, আর আমি আমার ভুল ধরে দিলে শুধরানোর জন্য প্রস্তুত। আমি চাচ্ছি দুজন দুজনকে আরও সময় দিই, আরও বোঝাপড়া হোক, সন্তান পালনের অভিজ্ঞতা হোক। এরপর যদি মনে হয় দ্বিতীয় আরেকটা সংসার তিনি ইনসাফসহকারে গড়তে পারেন তাহলে মাসনা করুন, সমস্যা নাই। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, তিনি ইনসাফ পারবেন। তিনি আমার সাথেই পরিপূর্ণ উত্তম হতে পারেন নি। আমার সাথেই তার আচরণ কেমন যেন। আপন হওয়া দূরের কথা, পর পর লাগে এখন তাকে। আর তাছাড়া উনার ইনকাম সীমিত আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের ঋণ আছে, প্রয়োজন আছে। আমার যাকাত আর কুরবানি ওয়াজিব হয়েছে গয়নার জন্য, এগুলোও এখনো দিইনি। উনি ট্যাবু ভাংগতে মাসনা চাচ্ছেন। অথচ ট্যাবু ভাঙার মতো সমাজে আরও অনেক মিশন থাকতে পারে। এমন না যে, নির্দিষ্ট কোনো নারীর প্রতি উনার টান, এখান থেকে বের হতে পারছেন না তাই বিয়ে জরুরি, এমন কিছুও না।
আমি চাচ্ছি, আমাদের সম্পর্কটা সুন্দর করতে। উনি আগে বুঝুক প্রথম স্ত্রীর দায়িত্ব কি! আমিও চেষ্টা করবো স্বামীর জন্য উত্তম স্ত্রী হতে। কিন্তু না তিনি আমার সহায় হচ্ছেন আর না আমি সুযোগ পাচ্ছি। জীবনটা যেন অগো৯ছালো হয়ে গেছে।
যাই হোক, এই অবস্থায় কিছু প্রশ্ন-
১. আমি কি ডেলিভারির ঝুঁকি নিয়েও আমার স্বামীর কাছে চলে যাবো?
২. উনি কি মাসনা করার জন্য উপযুক্ত?
৩. আমার সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করে দেয়া এবং আমার এই বিপদের অবস্থায় উনার মাসনার সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে আমার যে কষ্ট অনুভব হচ্ছে তা কি জুলুমের আওতায় পড়ে?
৪. মাসনা করা নাকি না করার পরামর্শ দিবেন উস্তায? (পরিবারের কাছে গোপন রেখে বিয়ে করার ইচ্ছা, কারণ পরিবার বাঁধা দিবে এবং মাসনা বিধান নিয়ে কুফরি কথা বলে ফেলার আশংকা আছে)
৫. আমার খোঁজ খবর রাখা, আমার সাথে উত্তম কথা বলা এগুলো কি স্ত্রীর হকের অন্তর্ভুক্ত? (আমি উনার অনুমতিতে বাবার বাড়ি এসেছিলাম, তবুও আমি যদি দূরে আসার মাধ্যমে উনার হক নষ্ট করে থাকি, তাহলে অবশ্যই উনার কাছে ফিরে যাবো ইনশাআল্লাহ)
৬. এটা আমি উনার কাছে পাঠাবো, দয়া করে উনার উদ্দেশ্যে কিছু নাসীহা দিন মিন ফাদ্বলিক
৭. আমার জন্য এই অবস্থায় কি নাসীহা থাকবে?
৮. তিনি যদি আমাকে গুরুত্ব না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেই ফেলেন, তাহলে কি আমি এমন শর্ত দিতে পারবো যে, " ইনসাফ রক্ষা না হলে আমি তার জীবন থেকে চলে যাবো আমার সন্তানসহ"??