আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
90 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (5 points)
reshown by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকা তুহ,,
আমি এখানে গায়রত নিয়ে অনেকগুলো উত্তর দেখেও মনে হলো নিজের বিষয়টি ক্লিয়ার করে প্রশ্ন করা উচিত।
প্রথমে আব্বুকে নিয়ে বলি প্রথমত তিনি অবশ্যই দ্বীনদার নন,, এবং অতি আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক একজন মানুষ যিনি মনে করেন মেয়ে সন্তান ছেলে সন্তানের থেকে কোনো অংশে কম নয়।এটাতে অবশ্যই দুনিয়াবি মানুষ বাহবা দেবেন। আমিও দ্বীনে ফেরার আগে দিতাম যে না ভাগ্য করে বাবা পাইছি যিনি কখনোই আমাকে ছোট করেন নি।কখনোই বলে নি তোমার রেজাল্ট খারাপ হলে বিয়ে দিবো নিচু মনের ব্যক্তি তিনি নন। তিনি সত্যিই নিচু মনের নন,মাশা-আল্লাহ ।তবে দ্বীন বোঝার পর মনে হয়েছে তার গায়রত শূণ্যের ঘরে অনেক বুঝিয়েছি বোঝাতে পারি নি।তিনি মেয়ে হিসেবে আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন তবে তিনি ভুলেই গেছেন আমি মেয়ে।আমকে  ঘরে রাখার জন্যই সৃষ্টি ওজর ছাড়া বাহিরে নয়। আমাকে পুরুষের সমতুল্য কাজের মধ্যে শুধু মনে হয় ভারি কোনো জিনিসপত্রের কাজটাই দেন নি নয়তো কমবেশি সব করেছি যেমন,স্কুল কলেজ ভার্সিটির যাবতীয় কাজ একা করতে হতো,ভাইয়াকে সঙ্গে পাঠালেও সে ভীতরে কখনোই ঢুকতো না  হয়তো তারও সেরকমই ভাবনা,  জমাজমির কাগজপত্র উঠানো তার বর্তমান ভাবনা আমিনের কোর্স করাবেন, এককথায় দুনিয়াবি সকল কাজে এক্সপার্ট হওয়া আবশ্যক তার দৃষ্টিতে। এতে বলব না অভিজ্ঞতা হয় নি অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়েছে যার মাধ্যমে দুনিয়াবি মানুষ আমাকে সহজে পরাস্ত করতে পারবে না বলেই আমার বাবার ধারণা। তিনি যেহেতু দুনিয়াবি ভাবেন সেহেতু তার ভাবনা মেয়ে কে সব কাজেই পারদর্শী হওয়া টা জরুরি যাতে তাকে কেউ কোনোভাবে ঠকাতে না পারে সেজন্য তিনি ছোট থেকে আমাকে স্কুল কলেজে ভার্সিটিতে কখনো নিয়ে যান নি, আমাকে কখনো মার্কেটে নিয়ে যান নি (মাকে পাঠাতো),আমাকে কখনো নিয়ে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যান নি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভাইয়া সঙ্গে থাকত যে নিজেও ছোট একজন তবে হ্যাল্প হতো আরকি।এই সবকিছু তে অনেক হ্যারেসমেন্টের স্বীকার হতাম বাসায় সেসব বলার মতো মুখ কখনোই হতো না।কারণ এতে কলহ বাড়বে আমি সম্মান হারাবো। আমার আব্বু যদি কখনো ১০০জন পরপুরুষের সামনে আমি দাড়িয়ে থাকি তিনি বলবেন না ভীতরে/বাড়িতে যাও। আমি দ্বীনে ফেরার পর পরিপূর্ণ পর্দা শুরু করার পর এ কথাটা একবার শোনার জন্য ওরকম পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকবার পর্দারত অবস্থায় দাড়িয়ে থাকতাম তবুও বলে নি যখন হচ্ছে না তখন আমি নিজেই এ ইচ্ছা দুনিয়াতে দাফন করছি। আব্বুকে  অনেক বুঝিয়ে অনেক মেহনত অনেক দোয়ার পর দ্বীন পালনের মধ্যে শুধু দাড়ি রাখাতে পেরেছি আর শুক্রবারের নামাজ। এতটুকুই আমি স্বীকার করছি আমি মেয়ে হিসেবে বরাবরই ব্যর্থ কিন্তু আমি নিরুপায় তাদের আর জোর করি না দোয়া করি মাঝে মাঝে স্বরন করাই দেই যে দ্বীন বলতে কিছু আছে। কারণ হেদায়েতের মালিক তো আল্লাহ আমি তো ওসিলামাত্র বেশি জোরাজোরি করতে গেলে আমাকে শারীরিক মানসিক ভাবে অত্যাচারিত হতে হয় সেজন্য এখন এই পথ অবলম্বন আল্লাহ সহায় হোন।

এবার আসি ভাইয়ার ক্ষেত্রে আমার ভাইয়া উনি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন যতটুকু বড়ভাই হিসেবে করা উচিত চেষ্টা করেন তবে কোথাও গিয়ে তিনি গায়রতহীনের পরিচয় দেন।আগে কষ্ট হতো না কারণ তখন তিনি বেদ্বীন ছিলেন যখন দ্বীনে ফিরলেন IOM এ আলিমে ভর্তি হলো গত জুলাইয়ে  তখন এক্সপেকটেশন বাড়লো যদিও তা অনুচিত। আমি নতুন হিসেবে এখনো কিছুই বলি নি  শুধু বলছি গায়রতবান হও।সেজন্য গায়রত নামে একটি বই পড়তে দিছিলাম যা এখনো তিনি পড়েন নি। হয়তো তার সময় হয় নি।তবে বেশকিছু জিনিসে মনে হয়েছে সে যেহেতু একটু দ্বীনে ফিরছে তার উচিত একজন গায়রতবান পুরুষের মতো আচরণ করা, একজন বোনকে কিভাবে যত্নে আগলানো উচিত সেটি জানা আমি সেটাই বোঝাতে ভাইকে একদিন শৈশবের ব্যাড টাচের কথা বলেছিলাম এই আশায় তিনি কিছু রেসপন্স করবেন আমি বর্তমান পরিস্থিতি গুলো বলব যাতে তিনি অন্ততপক্ষে সতর্ক হোন কিন্তু তিনি রেসপন্স করেন নি। আমি জানি মানুষ দ্বীনে ফিরেই এতোকিছু জানা সম্ভব নয় বোঝাও সম্ভব নয় এটা কখনো সম্ভব হবে না মাত্র ৭/৮মাসে জানা তবে আমি তাকে বহুবার বলেছি গায়রতবান বই টা পড়ো । এটা ভেবেছিলাম তিনি যেহেতু একজন বড় ভাই কেনো তাকে বারবার বলছি তিনি বুঝবেন সেই প্রবাদ বাক্যের মতো যে সামাঝদারের জন্য ইশারাই কাফি হে।কিন্তু তিনি বোঝেন নি।

 এমতাবস্থায় আমি বাবা কে কিভাবে বোঝাতে পারি তাদের, দ্বীন এবং গায়রত কেমন হওয়া উচিত? এবং ভাইয়াকে কিভাবে আরও বোঝাতে পারি বাহিরে আমার সেফটি ইস্যু গুলো বা ভাই হিসেবে তার করনীয় কি? উস্তাদজি আমি এই উত্তর টা ভাইয়াকে দিবো আমি সে অনুযায়ী উত্তর চাচ্ছি ।ভাইয়া যেহেতু আমাদের মাদ্রাসায় পড়েন সেহেতু আই ফতোয়া সম্পর্কে জানেন সেজন্যই বিস্তারিত উল্লেখ করেই প্রশ্ন করা।মেহেরবানি করে উত্তর টা দিয়েন উস্তাদজি।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
দাইয়ুস যে জান্নাতে যাবে না; এ মর্মে একাধিক হাদিস রয়েছে। যেমন, এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
إِنَّ اللهَ سُبْحَانَهُ وَتَعَالٰى لَمَّا خَلَقَ الْجَنَّةَ قَالَ : وَعِزَّتِيْ وَجَلاَلِيْ لَا يَدْخُلُكِ بَخِيْلٌ وَلَا كَذَّابٌ وَلَا دَيُّوْثٌ
নিশ্চয়ই সর্বশক্তিমান আল্লাহ সুবহানাহু তাআ’লা যখন জান্নাত সৃষ্টি করেছেন তখন জান্নাতকে বলেছেন, আমার সম্মান-গৌরব ও পরাক্রমশালীর শপথ, কৃপণ (সম্পদে আল্লাহ তা‘আলার অধিকার বিনষ্টকারী), মিথ্যাবাদী (কোরআন-সুন্নাহকে মিথ্যাপ্রতিপন্নকারী) এবং দাইয়ুস ব্যক্তি তোমার মধ্যে প্রবেশ করবে না। (নাসাঈ, যাকাত অনুচ্ছেদ ২৫৬২ মুসনাদে আহমাদ ২/১৩৪)

عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ثَلَاثَةٌ قَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِمُ الْجَنَّةَ: مُدْمِنُ الْخَمْرِ وَالْعَاقُّ وَالدَّيُّوثُ الَّذِي يُقِرُّ فِي أَهْلِهِ الْخَبَثَ . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالنَّسَائِيّ
ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন শ্রেণীর লোকের জন্য আল্লাহ তা’আলা জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। সর্বদা মদ্যপায়ী, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান এবং দাইয়ূস (পাপাচারী কাজে পরিবারকে বাধা দেয় না)। (মিশকাত-৩৬৫৫,মুসনাদে আহমদ২/৬৯)

মুল্লা আলী কারী রাহ বলেন,
 ( والديوث  ) بتشديد التحتية المضمومة (الذي يقر) بضم أوله أي يثبت بسكوته (على أهله) أي من امرأته أو جاريته أو قرابته (الخبث) أي الزنا أو مقدماته وفي معناه سائر المعاصي كشرب الخمر وترك غسل الجنابة ونحوهما، قال الطيبي: أي الذي يرى فيهن ما يسوءه ولا يغار عليهن ولا يمنعهن فيقر في أهله الخبث.
মর্মার্থ, যে ব্যক্তির পরিবারবর্গ তার জানা স্বত্বেও গোনাহে লিপ্ত তাকেই দাইয়ূস বলা হয়।

দাইয়ুসের পরিচয় সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
اَلدَّيُّوْثُ هُوَ الَّذِيْ لَا يُبَالِيْ مَنْ دَخَلَ عَلٰى أَهْلِهِ
দাইয়ুস হলো সে ব্যক্তি যে, তার পরিবারের নিকট কে প্রবেশ করল এ ব্যাপারে ভ্রুক্ষেপ করে না। (তাবরানি ১৩১৮০ আততারগিব ওয়াততারহিব ৩৪৭৬)
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/6996


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যেই পরিবারের পুরুষরা নারীদেরকে পর্দার ভিতরে রাখার চেষ্টা করবে না, গোনাহ থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা করবে না, তারা দায়ূস হিসেবে বিবেচিত হবে। আপনার বাবা ভাইয়ের হেদায়েতের জন্য দু'আ করুন। নিজ পক্ষ থেকে পর্দায় থাকার চেষ্টা করুন। আল্লাহ আপনান পরিবারকে সঠিক জিনিষ বুঝার ও আমলে পরিণত করার তাওফিক দান করুক।আমীন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...