জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
নামাজ ত্যাগ অনেক মারাত্মক গুনাহ।
হাদীস শরীফে এসেছে-
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ أَوْصَانِي خَلِيلِي ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ " وَلاَ تَتْرُكْ صَلاَةً مَكْتُوبَةً مُتَعَمِّدًا فَمَنْ تَرَكَهَا مُتَعَمِّدًا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّةُ وَلاَ تَشْرَبِ الْخَمْرَ فَإِنَّهَا مِفْتَاحُ كُلِّ شَرٍّ " .
আবূ দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রিয় বন্ধু (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
আমাকে এই উপদেশ তুমি স্বেচ্ছায় ফরয নামায ত্যাগ করো না। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় তা ত্যাগ করে তারথেকে (আল্লাহর ) যিম্মদারি উঠে যায়। তুমি মদ্যপান করো না। কেননা তা সর্বপ্রকার অনিষ্টের চাবিকাঠি। (সুনানে ইবনে মাজাহ ৪০৩৪)
আরো জানুনঃ
ইবনে আবেদীন শামী রাহঃ কাযা নামায পড়ার নিয়ম এভাবে দিয়েছেন যে,
ﻭﻓﻰ ﺍﻟﺪﺭ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ - ﻛَﺜُﺮَﺕْ ﺍﻟْﻔَﻮَﺍﺋِﺖُ ﻧَﻮَﻯ ﺃَﻭَّﻝَ ﻇُﻬْﺮٍ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﻭْ ﺁﺧِﺮَﻩُ،
ﻭﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﻋﺎﺑﺪﻳﻦ ﺍﻟﺸﺎﻣﻰ – ( ﻗَﻮْﻟُﻪُ ﻛَﺜُﺮَﺕْ ﺍﻟْﻔَﻮَﺍﺋِﺖُ ﺇﻟَﺦْ ) ﻣِﺜَﺎﻟُﻪُ : ﻟَﻮْ ﻓَﺎﺗَﻪُ ﺻَﻠَﺎﺓُ ﺍﻟْﺨَﻤِﻴﺲِ ﻭَﺍﻟْﺠُﻤُﻌَﺔِ ﻭَﺍﻟﺴَّﺒْﺖِ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻗَﻀَﺎﻫَﺎ ﻟَﺎ ﺑُﺪَّ ﻣِﻦْ ﺍﻟﺘَّﻌْﻴِﻴﻦِ ﻟِﺄَﻥَّ ﻓَﺠْﺮَ ﺍﻟْﺨَﻤِﻴﺲِ ﻣَﺜَﻠًﺎ ﻏَﻴْﺮُ ﻓَﺠْﺮِ ﺍﻟْﺠُﻤُﻌَﺔِ، ﻓَﺈِﻥْ ﺃَﺭَﺍﺩَ ﺗَﺴْﻬِﻴﻞَ ﺍﻟْﺄَﻣْﺮِ، ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺃَﻭَّﻝَ ﻓَﺠْﺮٍ ﻣَﺜَﻠًﺎ، ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﺇﺫَﺍ ﺻَﻠَّﺎﻩُ ﻳَﺼِﻴﺮُ ﻣَﺎ ﻳَﻠِﻴﻪِ ﺃَﻭَّﻟًﺎ ﺃَﻭْ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺁﺧِﺮَ ﻓَﺠْﺮٍ، ﻓَﺈِﻥَّ ﻣَﺎ ﻗَﺒْﻠَﻪُ ﻳَﺼِﻴﺮُ ﺁﺧِﺮًﺍ، ﻭَﻟَﺎ ﻳَﻀُﺮُّﻩُ ﻋَﻜْﺲُ ﺍﻟﺘَّﺮْﺗِﻴﺐِ ﻟِﺴُﻘُﻮﻃِﻪِ ﺑِﻜَﺜْﺮَﺓِ ﺍﻟْﻔَﻮَﺍﺋِﺖِ . ( ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﺑﺎﺏ ﻗﻀﺎﺀ ﺍﻟﻔﻮﺍﺋﺖ - 2/538
ভাবানুবাদঃ-উমরী কাযা নামায আদায় করতে হলে প্রথমে কোন ওয়াক্তের কতটা নামায কাযা হয়েছে তা নির্ণয় করবে।যদি সেটা নির্ণয় করা সম্ভব না হয়। তাহলে অনুমান করে নিবে। অনুমান করে কোন ওয়াক্তের কতটি নামায কাযা হয়েছে সেটা নির্ধারণ করে নিবে। তারপর ধারাবাহিকভাবে একে একে সবগুলোকে আদায় করে নিবে।
যেমন, ফজরের নামায সর্বমোট ১০০ ওয়াক্তের কাযা হয়েছে। তখন কাযা নামায আদায় করার সময় এভাবে নিয়ত করবে যে, আমার জিম্মায় যত ফজরের নামায কাযা রয়েছে, সে অনাদায়কৃত নামায সমূহের মধ্য থেকে প্রথম ফজরের নামাযকে এখন কাযা আদায় করছি” এমন নিয়তে নামায আদায় করবে।এভাবে হিসেবে করে পড়তে থাকবে। প্রতিবার অনাদায়কৃত প্রথম ফজরের নামায বলার দ্বারা তার যিম্মায় যতগুলো নামায বাকি ছিলো, সেগুলোর প্রথম নামাযের নিয়ত হচ্ছে, তাই এক্ষেত্রে নিয়তটি নির্দিষ্ট নামাযেরই হচ্ছে।ঠিক উল্টোভাবেও করা যায়। অর্থাৎ যত নামায কাযা আছে তার সর্বশেষ অনাদায়কৃত কাযার নিয়ত করছি। এভাবেও পূর্বোক্ত পদ্ধতিতে বাকি নামাযের কাযা আদায় করা যাবে।(রদ্দুল মুহতার-২/৫৩৮)
এ ধারাবাহিকতায় বাকি নামায সমূহের ক্বাযা আদায় করবে। যোহর, আছর, মাগরিব, ইশা এবং সাথে বিতিরের নামাযকে ও এভাবেই আদায় করে নিবে।বিতিরের নামাযের ক্বাযা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-
https://www.ifatwa.info/629
যত দিনের ইচ্ছে কাযা আদায় করা যাবে। কোন সমস্যা নেই।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ২৭ বছরের নামাজ রোজার কাজা আদায় করতে হবে না।
তিনি যেদিন থেকে বালেগ হয়েছেন সেদিন হতে নামাজ ও সে বছরের রমজান হতে অনাদায়ী রোজার কাজা আদায় করতে হবে।
এক্ষেত্রে তার জিম্মায় কতগুলো নামাজ ও রোজা কাযা আছে, তা প্রবল ধারণার ভিত্তিতে আনুমানিক হিসাব করে সংখ্যা ধরে নিতে হবে।
তিনি এভাবে কাজা নামাজের নিয়ত করবেনঃ-
"আমার জিম্মায় যত ফজরের নামায কাযা রয়েছে, তার মধ্য (সেই অনাদায়কৃত নামায সমূহের মধ্য) হতে প্রথম ফজরের নামাযকে এখন কাযা আদায় করছি”
সহজ পদ্ধতি হলো,প্রতিদিন ঈশার পর বা আছরের পর বা মাগরিবের পর বা প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর সময় সুযোগ মোতাবেক এক দিনের বা কয়েক দিনের কাজা নামাজ উঠানো।
আর মনের মধ্যে নিয়ত রাখা,যে আমি ইনশাআল্লাহ সমস্ত কাজা নামাজ আদায় করবোই। সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
তাহলেই ইনশাআল্লাহ সে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাবে,ইনশাআল্লাহ।
কাজা রোযার ক্ষেত্রেও এভাবেই নিয়ত করবে।
একাধিক বছরের রোযা কাজা হলে কোন বছরের কাজা রোযা,সেই বছরের নিয়ত করতে হবে।
এক্ষেত্রে ইসলামের সঠিক জ্ঞান সন্তানকে না দেওয়ায় বাবা-মা এই দায়ভার হতে কোনভাবেই এড়িয়ে চলতে পারবে না।
(২-৩)
এক্ষেত্রে নিজে ইবাদতের পাশাপাশি সন্তানকে কাছে বসিয়ে তাকে কোন খেলনা দিয়ে তাকে সে খেলায় ব্যস্ত রাখা এবং হাসিখুশিতে রাখার চেষ্টা করার পরামর্শ থাকবে।
(০৪)
কেউ যদি কোরআন ১ খতম দিয়ে চায়, যে এই খতমের সওয়াব ৪/৫ জন বা তার অধিক মৃত ব্যক্তির জন্য পাঠাবে, তাহলে সেটা সম্ভব।
একাধিক মাইয়্যিতে কবরে ছওয়াব পৌঁছানোর নিয়তে তিনি কুরআন তেলাওয়াত করবেন। তাহলে তাদের কবরে ছওয়াব পৌঁছে যাবে।
আর যে কোরআন পড়ে খতম করেছে এতে তারও সওয়াব থাকবে।
জীবিত ব্যক্তির জন্য কোরআন খতমের সওয়াব দান করা যায়।
(০৫)
আপনি বাড়ি হতে মোবাইলে বিকাশ নগদ ইত্যাদি হতে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সাইটে দান করতে পারেন।
যেমন নব মুসলিমদের পুনর্বাসন বা তাদের সহায়তার খাতে আপনি দান করতে পারেন।
আরো জানুনঃ-
আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে বিভিন্ন গরিব-দুঃখীদের মাঝে দান করতে পারেন।
এগুলো সবই আপনি বিকাশ নগদ ইত্যাদি হতেই করতে পারবেন।
(০৬)
আপনি যদি পুরোপুরি নিয়ত করেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের, সেক্ষেত্রে মাঝেমাঝে পুরস্কারের যে ওয়াসওয়াসা মনের মধ্যে আসে এ দরুন আশা করি সমস্যা হবে না।
তবে এমন বিষয় মাথায় আসলে নিয়ত নবায়ন করার পরামর্শ থাকবে।
(০৭)
এ ধরনের চিন্তার দরুন আপনার গুনাহ হবে না।
তবে এ ধরনের চিন্তা করা ঠিক নয় কেননা বিবাহ দ্বারা একজন মানুষের ঈমান পূর্ণতা পায়।
বিবাহ অর্ধেক দ্বীন।
হাদিসে আছে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি বিবাহ করল না সে আমার দলভুক্ত নয়। পাশাপাশি হাদীসে আরোও আছেঃ-
যে নারী স্বামীর একান্ত অনুগতা ও পবিত্র সে নারীর বড় মর্যাদা রয়েছে ইসলামে। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,
إِذَا صَلَّتِ الْمَرْأَةُ خَمْسَهَا، وَصَامَتْ شَهْرَهَا، وَحَصَّنَتْ فَرْجَهَا، وَأَطَاعَتْ بَعْلَهَا، دَخَلَتْ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَتْ.
‘‘রমণী তার পাঁচ ওয়াক্তের নামায পড়লে, রমযানের রোযা পালন করলে, ইজ্জতের হিফাযত করলে ও স্বামীর তাবেদারী করলে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছামত প্রবেশ করতে পারবে।
(মিশকাতুল মাসাবিহ ৩২৫৪।)
(০৮)
সুন্নাত ও নফল নামাজের কাজা আদায় করতে হয় না।
তবে ফজরের সুন্নতের কাজা হলে ইশরাকের ওয়াক্ত হতে সেদিন যোহরের ওয়াক্ত আসার আগ পর্যন্ত কাজা আদায় করা যাবে।
যোহরের পূর্বের চার রাকাত সুন্নত কাজা হলে যোহরের ফরজ নামাজের পর দুই রাকাত সুন্নত আদায় করে আসরের ওয়াক্ত আসার আগ পর্যন্ত সেও চার রাকাত সুন্নত এর কাজা আদায় করা যাবে।
সুন্নত-নফল নামাজে সেজদায়ে সাহু আবশ্যক হলে সেক্ষেত্রে সাহু সেজদাহ দিতে হবে।