আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
74 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (51 points)
আসসালামু আলাইকুম

শাইখ,আমার কিছু প্রশ্ন ছিলো।

১.আমি এই রমাদ্বনে ইতকাফে বসুতে চাচ্ছি।আমি ওয়াসওয়াসাগ্রস্থ অযু গোসলে আমার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে।আমার ধারণা হয়ত বাথরুমে এই অতিরিক্ত সময় ব্যায় করার দ্বারা আমার ইতিকাফ ভেঙে যাবে।আসলেই কি বিষয়টা এমন?(আমি প্রায় ৪ বছর যাবত ওয়াসওয়াসাগ্রস্থ।হুট করে এখন চাইলেও ঠিক হতে পারবো না)

২.জীবনে তো অনেক গুনাহ করেছি কিন্তু তারমধ্যে কিছু গুনাহ এমন আছে যেগুলোর কারণে আমার ভয় হয় হয়ত এই গুনাহগুলার কারণে আখিরাতে আল্লাহ আমাকে পাকড়াও করবেন।আমি চাচ্ছি ওই গুনাহগুলো থেকে তাওবা করতে কিন্তু পারছি না।তাওবার শর্ত তো তিনটি।তন্মধ্যে গুনাহ থেকে ফিরে আসা এবং ভবিষ্যতে না করার সংকল্প করা এই দুইটা শর্ত আমি পুরা করেছি,আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু, গুনাহের কারণে যেই অনুশোচনা আসার কথা,অনুতাপ আর লজ্জা অনুভব হওয়ার কথা তা হচ্ছে না।এইটা তো তাওবার অন্যতম শর্ত।কিন্তু আমার অনুশোচনা আসছেই না!খারাপ লাগে না যে ইশ আমি আল্লাহর এতো অবাধ্য হয়েছি!এতো গুনাহ করেছি!এইসব ভাবনা আসে না মনে।

অনুশোচনা ছাড়া আমি কিভাবে তাওবা করতে পারি?

৩.ক.আমার স্বামী আগে আমার গায়ে বলা যায় কথায় কথায় হাত তুলতো।কিন্তু, বর্তমানে তা অনেকটাই কমেছে।দেখা যায় মাসে একবার হাত তুলছে যেটা আগে অনেক বেশি পরিমাণে ছিলো।গায়ে হাত তোলা বাদে সবসময় দোষ ধরা,কথা শুনানো,ঝাড়ি দেওয়া এইসব তো আছেই।আমার মাঝে মাঝে খুব মনে হয় সে হয়ত ভালো হয়ে যাবে।মানে একপ্রকার দৃড় বিশ্বাস জন্মে।আমি তো ভবিষ্যত জানি না, ভবিষ্যতে সে কেমন হবে তাও জানি না।তবুও মনের এই দৃড় বিশ্বাসের কারণে আমি তালাকের পথে আগাতে পারি না।আমার মনে হয় সে তো ভালো হয়ে যাবেই তাই তালাক নেওয়া অপ্রয়োজনীয় হবে।আর অপ্রয়োজনীয় তালাক নেওয়া তো নাজায়েজ।আসলেই কি উল্লিখিত পরিস্থিতিতে তালাক নেওয়া নাজায়েজ হবে আমার জন্য?

খ.সে আমার সাথে মাঝে মাঝে যেই দূর্ব্যবহারগুলো করে,গায়ে হাত তোলে,কথা শুনায়,গালি দেয়,আমার ফ্যামিলিকে গালি দেয় এগুলোর কারণে আমার যেমন খারাপ লাগার কথা তেমন লাগে না।আসলে তাকে আমি স্বামীসুলভ ভালোবাসতে পারিনা।আর আমার অবচেতন মনে প্রায় দেড় বছর যাবত এটা সেট হয়ে আছে যে,আমি চলে যাবো তালাক নিয়ে।তাই সে আমার সাথে কি করলো না করলো এতে আমার খারাপ লাগে না তেমন।এখন আসি আসল বিষয়ে,আমি যতটুকু জানি স্ত্রীর জন্য যদি স্বামীর সাথে থাকা খুব মানসিক অশান্তির কারণ হয় তবে তালাক নেওয়া জায়েজ।কিন্তু, আমার ক্ষেত্রে তো বিষয়টা তেমন হচ্ছে না।না হওয়ার পেছনে দুইটা কারণ,১.আমি এসবে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি।২.আমি তো চলে যাবো নিজেকে আশ্বাস দিচ্ছি তাই গায়ে লাগে না তার খারাপ ব্যবহার।

এমতাবস্থায় কি ধরা হবে যে তার সাথে থাকা আমার মানসিক শান্তিতে প্রচণ্ড বিঘ্ন ঘটাচ্ছে আর এই কারণে তালাক নেওয়া জায়েজ?

(ক এবং খ যদি উভয়টাই জায়েজ হয় তবে আমার জন্য বিষয়টা অনেক শস্তিদায়ক হবে।তখন নিজেকে আর দোষারোপ তেমন করা লাগবে না)

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ  
হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত,

ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻬَﺎ ﺯَﻭْﺝِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺃَﻥَّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻌْﺘَﻜِﻒُ ﺍﻟْﻌَﺸْﺮَ ﺍﻷَﻭَﺍﺧِﺮَ ﻣِﻦْ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﻮَﻓَّﺎﻩُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ، ﺛُﻢَّ ﺍﻋْﺘَﻜَﻒَ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟُﻪُ ﻣِﻦْ ﺑَﻌْﺪِﻩِ

রাসূলুল্লাহ সাঃ ইহকাল ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত রমজানের শেষ দশে এ'তেক্বাফ করতেন।অতঃপর উনার বিবিগণ এ'তেক্বাফ করেন।
সহীহ বোখারী-২০২৬
সহীহ মুসলিম-১১৭২

মহিলারা ঘরের মসজিদে (নামাজ পড়ার স্থানে) বা একটি জায়গাকে নির্দিষ্ট করে এ'তেক্বাফে বসবে।তবে সাবধান! পরবর্তীতে আর স্থান পরিবর্তন করা যাবে না।মহিলাদের জন্য শর্ত হল,হায়েয নেফাস থেকে পবিত্র থাকা।এ'তেক্বাফের মধ্যখানে যদি হায়েয চলে আসে, তাহলে এ'তেক্বাফ ফাসিদ হয়ে যাবে।কেননা তখন তো উনি আর রোযা রাখতে পারবেন না। 

পরবর্তীতে কমপক্ষে একদিন রোযা সহ এ'তেক্বাফকে কাযা করে নেবেন।সম্ভব হলে অবশিষ্ট সকল দিনের এ'তেক্বাফকে রোযাসহ কাযা করে নিতেও পারেন।

স্বাভাবত মানুষের যে সমস্ত প্রয়োজন থাকে সেসব প্রয়োজনের স্বার্থে তিনি এ'তেক্বাফ থেকে বের হতে পারবেন।প্রস্রাব পায়খানা,ওজু ফরয গোসল ইত্যাদির জন্য।তবে শীতিলতা অর্জনের নিমিত্তে উনি গোসলে যেতে পারবেন না।

খানা পাকানোর জন্য উনি পাকঘরে যেতে পারবেন না।তবে প্রয়োজনে তিনি এ'তেক্বাফ স্থলে খানাকে রান্না করে নিতে পারবেন।(ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ-১০/২৫১)
,
বিস্তারিত জানুনঃ  

আরো জানুনঃ 
,
ইতেকাফরত অবস্থায় বান্দা নিজেকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য দুনিয়ার অন্যান্য সকল বিষয় থেকে আলাদা করে নেয়। ঐকান্তিকভাবে মশগুল হয়ে পড়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিরন্তর সাধনায়। এতেকাফ ঈমান বৃদ্ধির একটি মূখ্য সুযোগ। সকলের উচিত এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের ঈমানী চেতনাকে প্রাণিত করে তোলা ও উন্নতর পর্যায়ে পৌছেঁ দেয়ার চেষ্টা করা।
কুরআনুল কারিমে বিভিন্নভাবে ইতেকাফ সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন, আমি ইবরাহীম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, এতেকাফকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো। (বাকারাহ-125)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, তোমরা মসজিদে এতেকাফ কালে স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা করো না। (বাকারাহ-187)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসংখ্য হাদীস এতেকাফ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্য হতে কিছু হাদীস নিচে উল্লেখ করা হল:
রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশ দিন এতেকাফ করতেন। (বুখারি-2025)
রসুলুল্লাহ (সাঃ) রমজানের শেষের দশকে এতেকাফ করেছেন, ইন্তেকাল পর্যন্ত। এরপর তাঁর স্ত্রী গণ এতেকাফ করেছেন। (বুখারি-2026)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রমজানে দশ দিন এতেকাফ করতেন, তবে যে বছর তিনি পরলোকগত হন, সে বছর তিনি বিশ দিন এতেকাফে কাটান। (তিরমিযী-808)

উত্তম হল নফল ইবাদত বেশী বেশী করা। যেমন সলাত আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, তাসবীহ-তাহলীল তথা সুবহানাল্লাহ, আল-হামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, তাওবাহ-ইস্তেগফার, দু‘আ, দুরূদ ইত্যাদি ইবাদতে সর্বাধিক সময় মশগুল থাকা। 

তাছাড়া শরীয়া বিষয়ক ইলম চর্চা করা।
পার্থিব ব্যাপারে কথাবার্তা বলা, অনর্থক গল্পগুজব ও আলোচনা থেকে বিরত থাকা উচিত, তবে পারিবারিক কল্যাণর্থে বৈধ কোন বিষয়ে অল্পস্বল্প কথাবার্তা বলার মধ্যে কোন দোষ নেই।

ইতিকাফ যে সকল কারণে ভঙ্গ হয়ে যায় তা হলো :
১. স্বেচ্ছায় বিনা প্রয়োজনে মাসজিদ থেকে বের হলে।
২. কোন শিরক বা কুফরী কাজ করলে।
৩. পাগল বা বেঁহুশ হয়ে গেলে।
৪. নারীদের হায়েয-নিফাস শুরু হয়ে গেলে।
৫. স্ত্রীসহবাস বা যে কোন প্রকার যৌনসম্ভোগ করলে।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

الفتاوى الهندية:

"(ومنها الجماع ودواعيه) فيحرم على المعتكف الجماع ودواعيه نحو المباشرة والتقبيل واللمس والمعانقة والجماع فيما دون الفرج والليل والنهار في ذلك سواء، والجماع عامدًا أو ناسيًا ليلًا أو نهارًا يفسد الاعتكاف أنزل أو لم ينزل، وما سواه يفسد إذا أنزل وإن لم ينزل لايفسد، هكذا في البدائع." (1/ 213ط:دار الفكر)
সারমর্মঃ-
ইতেকাফ কারীর উপর হারাম হলো সহবাস বা সহবাসের প্রতি উদ্ভুদ্ধ করে এমন যেকোনো কাজ। যেমন সংস্পর্শে থাকা,চুম্বন দেয়া,স্পর্শ করা,কোলাকুলি করা,সহবাস করা লজ্জাস্থান ব্যাতিত অন্য স্থানে,,,

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার প্রতি পরামর্শ থাকবে, আপনি কোন দিনক্ষণ নির্দিষ্ট না করে নফল ইতেকাফ করবেন। সেক্ষেত্রে উপরোক্ত সমস্যার দরুন আর কোন সমস্যা হবে না।

(০২)
আপনি তওবা করা অব্যাহত রাখুন, তাহাজ্জুদের সময় করুন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর করুন, ইফতারের আগ মুহূর্তে করুন, বিভিন্ন টাইমে করুন, এক সময় না একসময় ইনশাআল্লাহ অনুশোচনা আসবেই।

(০৩)
ক, এক্ষেত্রে তালাকের দিকে না গিয়ে দুই পরিবারের মুরব্বিদের মাধ্যমে মিটিং করে আপনার স্বামীকে বুঝিয়ে সহীহ পথে নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন। তাতেও সমাধান না হলে এরপরেও যদি শারীরিক নির্যাতন চলে সেক্ষেত্রে তালাক চাইতে পারেন।

খ, এক্ষেত্রেও একই পরামর্শ থাকবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...