আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
45 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (8 points)
আমার আব্বুর অনেক হালাল জিনিসের পাশাপাশি  দোকানে সিগারেটও বিক্রি করে।  আমার আব্বুকে বলেছি যে সিগারেট বেচা নাজায়েজ। আমার আব্বুও সেটা বাদ দেওয়ার কথা বলেছে কিন্তু এই এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না।
এই সিগারেট কোম্পানি আমাদের শহরের অনেক দোকানদারকে নিয়েন বন্ধন নামে একটা পার্টনারশিপ ব্যবসা মতো কি যানি করতেছে। এখন তারা বর্তমানে আমাদেরকে একটা wardrobe দিয়েছে। আমার আব্বু আম্মু এটা আমার ঘরে দিতে চাচ্ছে।  এখন আমি কি এটা ব্যবহার করতে পারবো?
বা আমার পিতা মাতার জন্য কি এটা নেওয়া ও ব্যবহার করা জায়েয?

1 Answer

0 votes
by (763,590 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

সিগারেট কোম্পানিতে চাকুরী করা,সিগারেট বিক্রয় করা জায়েজ কিনা,এই মর্মে ইসলামী স্কলারদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে।
মত বিরোধের মূল বিষয় হলো সিগারেট খাওয়া হারাম নাকি মাকরুহ?
,
অনেক ইসলামী স্কলারদের মতে এটি মাকরুহ।
অনেকের মতে হারাম।
,
সুতরাং এর উপর ভিত্তি করে সিগারেট কোম্পানিতে চাকুরী করা,সিগারেট বিক্রয় করা জায়েজ কিনা,এই মর্মে ইসলামী স্কলারদের মাঝে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
 
এক পক্ষের মত হলোঃ
সিগারেট বা বিড়ির কোম্পানীতে চাকুরী করা জায়েয।
তবে মদের কোম্পানিতে চাকুরী করা জায়েজ নেই।   

বিস্তারিত জানুনঃ 
,
সিগারেট বা বিড়ির কম্পানীতে চাকুরী করা জায়েয। কেননা সিগারেট বানানো বা সেল করা মূলত কোনো হারাম কাজ নয় বরং তা বৈধ কাজই।যদিও ধুমপান করা মাকরুহ।

ফাতাওয়া শামীতে বর্ণিত আছে,

ﻭﻟﻮ ﺁﺟﺮ ﻧﻔﺴﻪ ﻟﻴﻌﻤﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﻜﻨﻴﺴﺔ ﻭﻳﻌﻤﺮﻫﺎ ﻻ ﺑﺄﺱ ﺑﻪ ﻷﻧﻪ ﻻ ﻣﻌﺼﻴﺔ ﻓﻲ ﻋﻴﻦ ﺍﻟﻌﻤﻞ
)ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺪﺭ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ٦\٣٩٢ » ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺤﻈﺮ ﻭﺍﻹﺑﺎﺣﺔ » ﻓﺼﻞ ﻓﻲ ﺍﻟﺒﻴﻊ(

যদি কেউ কোনো গির্জায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে,অথবা টাকার বিনিময়ে গির্জা নির্মাণ করে দেয়, তাহলে এতে তার কোনো গুনাহ হবে না। কেননা এখানে মূল কাজে কোনো গুনাহ নাই।
রদ্দুল মুহতার,৬/৩৯২।

আরো জানুনঃ 
https://ifatwa.info/4255/

শরীয়তের বিধান হলো  সিগারেট বিক্রি করা যাবে,এই ব্যাবসা  জায়েজ আছে । এবং এর বিক্রির টাকাও হালাল হবে। তবে এহেন ব্যাবসা না করাই উত্তম।[ফাতাওয়া উসমানী-৩/৮৮-৮৯] 

দারুলউলুম দেওবন্দ এর ফতোয়া বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত 22331 নং ফতোয়া তে বলা হয়েছে যে সিগারেট বিক্রয় করা জায়েজ আছে,তবে ভালো (আচ্ছা) নয়।

সিগারেট এর ব্যাবসা মাকরুহ।
(ফাতাওয়ায়ে ফরিদিয়্যাহ ৭/৫১)

وَصَحَّ بَيْعُ غَيْرِ الْخَمْرِ) مِمَّا مَرَّ، وَمُفَادُهُ صِحَّةُ بَيْعِ الْحَشِيشَةِ (رد المحتار، كتاب الأشربة-10/35)

وَبِالْجُمْلَةِ إنْ ثَبَتَ فِي هَذَا الدُّخَانِ إضْرَارٌ صِرْفٌ خَالٍ عَنْ الْمَنَافِعِ فَيَجُوزُ الْإِفْتَاءُ بِتَحْرِيمِهِ وَإِنْ لَمْ يَثْبُتْ انْتِفَاعُهُ فَالْأَصْلُ حِلُّهُ  مَعَ أَنَّ فِي الْإِفْتَاءِ بِحِلِّهِ دَفْعَ الْحَرَجِ عَنْ الْمُسْلِمِينَ فَإِنَّ أَكْثَرَهُمْ مُبْتَلُونَ بِتَنَاوُلِهِ مَعَ أَنَّ تَحْلِيلَهُ أَيْسَرُ مِنْ تَحْرِيمِهِ وَمَا خُيِّرَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – بَيْنَ أَمْرَيْنِ إلَّا اخْتَارَ أَيْسَرَهُمَا (العقود الدرية في تنقيح الفتاوى الحامدية، مَسَائِلُ وَفَوَائِدُ شَتَّى مِنْ الْحَظْرِ وَالْإِبَاحَةِ وَغَيْرِ ذَلِكَ، مَسْأَلَةٌ أَفْتَى أَئِمَّةٌ أَعْلَامٌ بِتَحْرِيمِ شُرْبِ الدُّخَانِ-2/332

যার সারমর্ম হলোঃ  মদ ব্যাতিত অন্যান্য সব কিছুর ব্যবসা জায়েজ আছে।  

আরো জানুনঃ
,

★অন্য পক্ষের মত অনুসারে সিগারেট বিক্রয়,  কোম্পানিতে চাকুরী সবই নাজায়েজ। 
তারা বলেন যে সিগারেট খাওয়া হারাম,এটি শরীরকে ধ্বংসের দিকে ফেলে দেয়।
,
যেহেতু সিগারেট খাওয়া হারাম,তাই তাহা বিক্রয়, সেসব কোম্পানিতে চাকুরীও নাজায়েজ।         

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
 
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ [٥:٢] 

সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা। {সূরা মায়িদা-২}

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ মুসলমানগণ তার শর্তের উপর থাকবে। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৫৯৪, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-২৮৯০, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৪০৩৯}

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই, 
যেহেতু এই বিষয়ে মত বিরোধ রয়েছে,তাই প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে তারা যদি সেই wardrobe আপনাদের গিফট দিয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে তাদের দেয়া উক্ত গিফট গ্রহণ  করা জায়েজ হলেও সতর্কতামূলক তাদের গিফট গ্রহণ না করাই উচিত হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...