আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
89 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (7 points)
আসসালামু আলাইকুম।
আমাদের ক্যাম্পাসের এক মেয়ের প্রশ্ন : একসময় সে ইসলামের বিধিনিয়ম সম্পর্কে ততোটা ভালো ভাবে জানতো না। একবার কিছুটা বুজতে পেরে নামাজ, পর্দা কন্টিনিউ করে। কিন্তু কয়েকমাস পরই নফসের সাথে না লড়তে পেরে আস্তে আস্তে ঝড়ে পরে। পরবর্তীতে একটা ছেলের সাথে হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে পরে, এবং মেসেন্জারে কোনো রকম ভিত্তি ছাড়াই বিয়ে হয়েছে ভেবে নিয়ে এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে physically  intimacy হয়ে যায়। মেয়ের পরিবার এ বিষয়ে কিছুই জানে না। পরবর্তীতে মেয়েটা শিউর হয় তাদের বিয়ে টা হয় নি, তখন ছেলেকে জানায় তখন ছেলে ও চিন্তিত হয়ে জানায় সম্পর্ক ভেঙে তাওবা করবে। মেয়ে ও আর বাধা দেয় না। তাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় সেখানেই। এর পর যদিও অনেকটা দিন আফসোস করতো, কিভাবে এক পর্যায়ে আলহামদুলিল্লাহ খাস ভাবে তাওবা করে, যতো খারাপ কাজ+সঙ্গ ছিলো সব বাদ দিতে থাকে আস্তে আস্তে।কিন্তু যেহেতু দুজনই একই জায়গায় পড়াশোনা করে, এক সময় জানতে পারে, ছেলেটা, ছেলের বন্ধুদের মাঝে এ বিষয়ে বলে দেয়। যেটা মেয়ের জন্য খুবই সম্মানহানির বিষয় হয়ে দাড়ায় তার নিজের মনে। এর কিছু  মাস পর আনুমানিক (৪/৫) হটাৎ একদিন সে দেখে সেই ছেলেকে একটা মেয়ের সাথে দাড়িয়ে কথা বলছে, সে আর ততো খেয়াল দেয় না সেদিকে, তবে সিউর সেটা তার প্রাক্তনই ছিলে।
এতো সব চোখের সামনে দেখে শুনে ও একসময় ছেলেটাকে মাফ করে দেয়।
এখন তার প্রশ্ন হলো যেহেতু একটা সময় সে জিনায় জরিয়ে গিয়েছিলো যদিও তার পর খাস দিলে তাওবা করেছে, তারপরও কি তার ওপর ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো শাস্তি রয়েছে? যদিও থাকেও কিন্তু তাকে শাস্তি দেওয়ার মতো কেউ নাই, কোনো ব্যবস্থাও নাই। এমনতা পর্যায় তার কি করা উচিত? আর ছেলে কে মাফ করে দেয়াওর পর ও তার মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে মাফ না দিতে, এরজন্য কি সে বার বার মত পরিবর্তন করলে সেটা যুক্তিযুক্ত হবে?
এমতাবস্থায় তার কি কি করনীয় বললে মুনাসিব হয়। জাযাকাল্লাহু খইরন।

1 Answer

0 votes
by (809,370 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
তাওবাহ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ 
﴿ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺇِﺫَﺍ ﻓَﻌَﻠُﻮﺍ ﻓَﺎﺣِﺸَﺔً ﺃَﻭْ ﻇَﻠَﻤُﻮﺍ ﺃَﻧْﻔُﺴَﻬُﻢْ ﺫَﻛَﺮُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻓَﺎﺳْﺘَﻐْﻔَﺮُﻭﺍ ﻟِﺬُﻧُﻮﺑِﻬِﻢْ ﻭَﻣَﻦْ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻟَﻢْ ﻳُﺼِﺮُّﻭﺍ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺎ ﻓَﻌَﻠُﻮﺍ ﻭَﻫُﻢْ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ ﺃُﻭْﻟَﺌِﻚَ ﺟَﺰَﺍﺅُﻫُﻢْ ﻣَﻐْﻔِﺮَﺓٌ ﻣِﻦْ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ ﻭَﺟَﻨَّﺎﺕٌ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻷَﻧْﻬَﺎﺭُ ﺧَﺎﻟِﺪِﻳﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻭَﻧِﻌْﻢَ ﺃَﺟْﺮُ ﺍﻟْﻌَﺎﻣِﻠِﻴﻦَ﴾ [ ﺁﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ 136-135 : ] 
তারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য "ইস্তেগফার"(ক্ষমা প্রার্থনা) করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে-শুনে তাই করতে থাকে না।তাদেরই জন্য প্রতিদান হলো তাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে প্রস্রবণ যেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। যারা কাজ করে তাদের জন্য কতইনা চমৎকার প্রতিদান।(আলে-ইমরান;১৩৫-১৩৬)


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
তাওবাহ কবুল হওয়ার জন্য  তিনটি শর্ত রয়েছে।
(ক)পূর্বের কৃত গোনাহের কাজের উপর লজ্জিত হওয়া।(খ)বর্তমানে উক্ত কাজকে পরিত্যাগ করা।(গ)ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প করা।

উপরোক্ত শর্তাদি মেনে তাওবাহ করলে অবশ্যই তাওবাহ কবুল হবে।এবং আল্লাহ পূর্বের যাবতীয় গোনাহকে ক্ষমা করে দেবেন। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1048

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
দ্বীনে ফিরে আসা ঐ বোনের উচিত, অতীতের সমস্ত পাপকাজকে পরিত্যাগ করে খালিছ নিয়তে আল্লাহর কাছে তাওবাহ করা। এবং অতীতের সম্পূর্ণ বিষয়কে গোপন রাখা। ঐ ছেলেকেও মাফ করে দেয়া উচিত। খালিছ নিয়তে তাওবাহ করলে অবশ্যই আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...