আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
95 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (45 points)
edited by
শায়েখ আসসালামু 'আলাইকুম,

1.মৌসুমের সময় সস্তায় খাদ্যশস্য ক্রয় করে মৌসুম শেষে  কিছুটা বেশী দামে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে  থাকে,তো সে সময় বিক্রয় করা জায়েজ কি? ইনকাম হালাল কি? সাহাবীগণ কি এরূপ ব্যবসা করতেন? কৃত্রিম দাম বৃদ্ধির কোন  উদ্দেশ্য নেই,সে এতদিন শুধু যে মজুদ করে রাখবে তা না,,, খাদ্যশস্যের নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে / যত্ন নিতে হবে,,খাদ্য শুকালে ওজন ও তো কমে যায়,আমার জানা মতে হযরত উমার (রা.), হযরত উসমান (রা.) মৌসুমের সময় সস্তায় ক্রয় করে সংরক্ষণ  করতেন এবং পরে বিক্রয় করতেন।

2.

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন:

"ইবনে উমার (রা.) দাম বাড়া পর্যন্ত পণ্য আটকে রাখতেন। কিন্তু এতে কোনো দোষ নেই, কারণ তিনি সস্তার সময় কিনেছিলেন এবং স্বাভাবিক বাজার মূল্যে বিক্রি করেছিলেন। এটি ব্যবসায়িক সংরক্ষণ, মজুদদারী নয়।"
(মাজমূ' ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া, ২৯/৩৭৩)
এটা কি সঠিক?

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
এহতেকারে শাখাপ্রশাখা গত কিছু আলোচনা,
وَقَدْ صَوَّرَهُ ابْنُ الْقَيِّمِ بِقَوْلِهِ: أَنْ يَلْزَمَ النَّاسَ أَلاَّ يَبِيعَ الطَّعَامَ أَوْ غَيْرَهُ مِنَ الأَْصْنَافِ إِلاَّ نَاسٌ مَعْرُوفُونَ، فَلاَ تُبَاعُ تِلْكَ السِّلَعُ إِلاَّ لَهُمْ، ثُمَّ يَبِيعُونَهَا هُمْ بِمَا يُرِيدُونَ. فَهَذَا مِنَ الْبَغْيِ فِي الأَْرْضِ وَالْفَسَادِ بِلاَ تَرَدُّدٍ فِي ذَلِكَ عِنْدَ أَحَدٍ مِنَ الْعُلَمَاءِ. وَيَجِبُ التَّسْعِيرُ عَلَيْهِمْ، وَأَنْ يَبِيعُوا وَيَشْتَرُوا بِقِيمَةِ الْمِثْل مَنْعًا لِلظُّلْمِ. وَكَذَلِكَ إِيجَارُ الْحَانُوتِ عَلَى الطَّرِيقِ أَوْ فِي الْقَرْيَةِ بِأُجْرَةٍ مُعَيَّنَةٍ، عَلَى أَلاَّ يَبِيعَ أَحَدٌ غَيْرُهُ، نَوْعٌ مِنْ أَخْذِ أَمْوَال النَّاسِ قَهْرًا وَأَكْلِهَا بِالْبَاطِل، وَهُوَ حَرَامٌ عَلَى الْمُؤَجِّرِ وَالْمُسْتَأْجِرِ-
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রাহ, এহতেকার এর শাখাপ্রশাখাগত আলোচনা করতে যেয়ে তার একটি পদ্ধতি এরূপ বর্ণনা করেন যে,মানুষের উপর অত্যাবশ্যকীয় করে দেয়া যে,উক্ত খাদ্য বা এজাতীয় অন্যান্য জিনিষ নির্দিষ্ট সংখ্যক কিছু লোক(ডিলার) ছাড়া অন্য কেউ বিক্রি করতে পারবে না।সুতরাং উক্ত জিনিষকে শুধুমাত্র ঐ সমস্ত ব্যক্তিবর্গের(ডিলারদের) নিকটই বিক্রি করা হয়।আর তারা যেভাবে ইচ্ছা মূল্যনির্ণয় পূর্বক বিক্রি করে।এটা নিঃসন্দেহে যমিনে বিশৃঙ্খলা ও ফাসাদ সৃষ্টির অন্যতম কারণ।তাদেরকে সহজ সাধারণ বাজারমূল্য  নির্ধারণ ও মুক্তভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য বাধ্য করা মুসলমানদের উপর ওয়াজিব।
ঠিক তেমনিভাবে রাস্তার ধারে বা গ্রামে নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে কোনো দোকান ঐ শর্তে ভাড়া দেয়া ও নেয়া যে,সে ব্যতীত আর কেউ বিক্রয় করতে পারবে না।
এটা মানুষের মালকে অন্যায়ভাবে জোড়করে করে আত্মসাৎ করা ও বাতিল ত্বরিকায় উপার্জন করার নামান্তর।
এক্ষেত্রে দোকান ভাড়ায় প্রদানকারী ও ভাড়াটি উভয় ই গোনাহগার হবেন।(আল-মাওসুআতুল ফেকহিয়্যাহ 2/94)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে গোদামজাত করা নাজায়েয ও হারাম।তবে যদি কারো গোদামজাত করণের দ্বারা বাজারে কোনো প্রভাব না পড়ে,তাহলে উনি এমন কোনো মালকে গোদামজাত করতে পারবেন।এবং যতদিন ইচ্ছা করতে পারবেন।এর জন্য কোনো সময়সীমা নাই।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/7334

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) মৌসুমের সময় সস্তায় খাদ্যশস্য ক্রয় করে মৌসুম শেষে  কিছুটা বেশী দামে বিক্রয় করা নাজায়েয হবেরনা। 

(২)
ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন:
"ইবনে উমার (রা.) দাম বাড়া পর্যন্ত পণ্য আটকে রাখতেন। কিন্তু এতে কোনো দোষ নেই, কারণ তিনি সস্তার সময় কিনেছিলেন এবং স্বাভাবিক বাজার মূল্যে বিক্রি করেছিলেন। এটি ব্যবসায়িক সংরক্ষণ, মজুদদারী নয়।"
(মাজমূ' ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া, ২৯/৩৭৩)
এটা সঠিক।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...