আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
51 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)

প্রশ্ন নং১: ফতোয়ায়ে শামী এর মাসয়ালা মতে হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হতে হলে বাবাকে মেয়ের গোপনাঙ্গ দিকে কামভাব বা সহবাসের নিয়তে দৃষ্টি এবং শরীলেও কামভাব বা সহবাসের নিয়তে স্পর্শ করলেই কেবল হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হবে।মুফতি সাহেব আপনি নিজেও এরকম অনেক প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন যে, শ্বাশুড়ি ও মেয়েকে স্পর্শ কিংবা দৃষ্টি দেওয়ার সময় কেবল তাদের দিকেই যদি কামভাব বা সহবাসের নিয়ত থাকে তাহলে হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হবে।যদি গোপনঙ্গ অন্য কোনো কারনে দাড়িয়ে থাকে কিংবা অন্য কারো প্রতি কামভাবের কারনে গোপনাঙ্গ দাড়িয়ে থাকে এমন অবস্থায় যদি মেয়ে,শ্বাশুড়ির শরীলে স্পর্শ লাগে তাহলেও হুরমতে মুসাহারা হবে না কারন মেয়ে শ্বশুড়ির প্রতি ত কামভাব নেই।

 ফাতওয়ায়ে আলমগীরী এর মতে কামভাব বা সহবাসের নিয়ত যদিও নিজ স্ত্রী এর উপরেই থাকে কিন্ত ভুল বসত নিজের মেয়ের উপর হাত পরে যায় তাহলেও হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হবে।যা থেকে বুঝা যায় ফাতওয়ায়ে শামী ও আলগীরী একটি এর মত আরেকটির বিপরীত কারন ফতওয়ায়ে শামীর মতে মেয়েকে স্পর্শ করলে তখনই হুরমত সাব্যস্ত হবে যখন মেয়ের প্রতি কামভাব বা সহবাসের নিয়ত থাকবে আর ফাতওয়ায়ে আলমগীরী এর মতে যদিও স্ত্রী এর প্রতি কামভাব কিন্ত মেয়ের দিকে কামভাব না থাকলেও স্পর্শ লাগলে হুরমতে মুসাহারা হয়ে যাবে।

এখন আমার প্রধান প্রশ্ন হল কোনটা সঠিক এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি,ফাতওয়ায়ে শামী নাকি আলমগীরী?বর্তমানে আমি আপনার দেওয়া মাসয়ালা এবং ফতওয়ায়ে শামী এর মতামত মেনে চলছি,  সকল দিক ও গ্রহনযোগ্যতা বিবেচনা করে।

আমি কি সঠিক দিকেই আছি যে হুরমতে মুসাহারা হতে হলে মেয়েকে যদি স্পর্শ করা হয়, তাহলে মেয়ের প্রতি সহবাস বা কামবাবের নিয়তে থাকতে হবে অন্য কারো প্রতি থাকলে হবে না?একটু বুঝিয়ে বলবেন দয়া করে মুফতি সাহেব?

 

প্রশ্ন ২:শ্বশুর কর্তৃক পুত্র বধুকে কামভাব ও সহবাসের নিয়তে স্পর্শ করার পর যদি হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হয়ে যায়।এমন অবস্থায় যদি শ্বশুর হুরমত সম্পর্কে না জানে এবং হুরমত সাব্যস্ত হওয়ার পর ও তার ছেলে এবং ছেলের বৌ সংসার করতে থাকে এবং ১০ বছর পর গিয়ে ছেলের বৌ মারা যায়।ছেলের বৌ মারা যাওয়ার পর, শ্বশুর যদি জানতে পারে হুরমতে মুসাহারা সম্পর্কে এবং এটা ও জানতে পারে যে তার কারনে তার ছেলে এবং ছেলের বৌ এর হালাল সম্পর্ক নস্ট হয়ে গিয়ে তারা অবৈধ ভাবে বসবাস করেছিল।

এক্ষেত্রে শ্বশুর জানার পর শ্বশুর এর কি করনীয়?শ্বশুর ত এখন ভুল বুঝতে পারছে।

তার ছেলে ও ছেলের বৌ এর সম্পর্ক অবৈধ হওয়ার পর ও যে একসাথে থেকেছে এতে করে ত জিনার গু না হয়েছে,তাহলে এখন এই গুনার দায় ভার কার, শ্বশুরের নিতে হবে নাকি?শ্বশুর এর এখন কি করা প্রয়োজন, তার ছেলের কাছে ক্ষমা চাইবে নাকি আল্লহর কাছে ক্ষমা চাইবে?

একটু সহজ করে সমাধান দিবেন কারন ছেলের কাছে ক্ষমাই চাইবে কিভাবে আর এগুলো কিভাবে বলবে, লজ্জার বিষয়।

প্রশ্ন ৩:কোনো ব্যাক্তি যদি অন্য কোনো স্বামী এবং স্ত্রী এর সহবাসে মিলনের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে গিয়ে দেখে,এবং স্বামী ও স্ত্রী ঐ ব্যাক্তিকে দেখে ফেলার পর ব্যাক্তিটি চলে যায়।পরবর্তীতে ব্যাক্তিটি তার অপরাধ বুঝতে পারে।এতে করে ব্যাক্তিটি কি বান্দার হক নস্ট করেছে? এখন এই অপরাধ এর কারনে কি স্বামী ও স্ত্রী এর কাছে ক্ষমা চাইবে নাকি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে?স্বামী ও স্ত্রী এর কাছে ত ক্ষমা চাওয়া লজ্জার বিষয় এক্ষেত্রে সহজে কিভাবে ক্ষমা পেতে পারে একটু সমাধন দেন?

 

মুফতি সাহেব দয়া করে সমাধানগুলো দেন, এখানে ৩ টা প্রশ্নের ভিতরেই অনেকগুলো প্রশ্ন করে ফেলেছি, দয়া করে সবগুলো উত্তর ই একটু বুঝিয়ে দিয়েন।

1 Answer

0 votes
by (814,620 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
لما في ردالمحتار،ج:٣-ص:٣٣ (نسخة شاملة)
ويشترط وقوع الشهوة عليها لا على غيرها لما في الفيض لو نظر إلى فرج بنته بلا شهوة فتمنى جارية مثلها فوقعت له الشهوة على البنت تثبت الحرمة، وإن وقعت على من تمناها فلا -
অর্থাৎ- যাকে স্পর্শ করা হচ্ছে,তাকে নিয়ে কামভাব থাকতে হবে।কেননা বর্ণিত রয়েছে,কেউ যদি তার মেয়ের লজ্জাস্থানের দিকে কামভাব ছাড়া দৃষ্টি দেয়,এবং কল্পনায় অন্য কোনো নারীকে সে সঙ্গী হিসেবে চায়,কিন্তু তৎক্ষণাৎ তার মেয়ের দিকে তার কামভাব জাগ্রত হয়ে যায়,তাহলে তখন হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হয়ে যাবে(তথা তার বিবি তার জন্য হারাম হয়ে যাবে)তবে যদি তার কামভাব কল্পিত সে নারীর উপরই থাকে তাহলে হুরমতে মুসাহারাহ সাব্যস্ত হবে না।ফাতাওয়ায়ে শামী-৩/৩৩(শামেলা)( কিতাবুন-নাওয়যিল-৮/২৮৮)
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1233

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) মানুষের সহজতার জন্য ফাতাওয়ায়ে শামীর কথাই মেনে চলবেন।
(২) এক্ষেত্রে শশুড়কে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেই হবে।
(৩) অনিচ্ছাকৃত দেখলে তো কোনো গোনাহ হবে না।হ্যা, ইচ্ছাকৃত দেখলে অবশ্যই গোনাহ হবে। এজন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। সংশ্লিষ্ট বান্দার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...