প্রশ্ন নং১: ফতোয়ায়ে শামী এর মাসয়ালা মতে হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হতে হলে বাবাকে মেয়ের গোপনাঙ্গ দিকে কামভাব বা সহবাসের নিয়তে দৃষ্টি এবং শরীলেও কামভাব বা সহবাসের নিয়তে স্পর্শ করলেই কেবল হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হবে।মুফতি সাহেব আপনি নিজেও এরকম অনেক প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন যে, শ্বাশুড়ি ও মেয়েকে স্পর্শ কিংবা দৃষ্টি দেওয়ার সময় কেবল তাদের দিকেই যদি কামভাব বা সহবাসের নিয়ত থাকে তাহলে হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হবে।যদি গোপনঙ্গ অন্য কোনো কারনে দাড়িয়ে থাকে কিংবা অন্য কারো প্রতি কামভাবের কারনে গোপনাঙ্গ দাড়িয়ে থাকে এমন অবস্থায় যদি মেয়ে,শ্বাশুড়ির শরীলে স্পর্শ লাগে তাহলেও হুরমতে মুসাহারা হবে না কারন মেয়ে শ্বশুড়ির প্রতি ত কামভাব নেই।
ফাতওয়ায়ে আলমগীরী এর মতে কামভাব বা সহবাসের নিয়ত যদিও নিজ স্ত্রী এর উপরেই থাকে কিন্ত ভুল বসত নিজের মেয়ের উপর হাত পরে যায় তাহলেও হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হবে।যা থেকে বুঝা যায় ফাতওয়ায়ে শামী ও আলগীরী একটি এর মত আরেকটির বিপরীত কারন ফতওয়ায়ে শামীর মতে মেয়েকে স্পর্শ করলে তখনই হুরমত সাব্যস্ত হবে যখন মেয়ের প্রতি কামভাব বা সহবাসের নিয়ত থাকবে আর ফাতওয়ায়ে আলমগীরী এর মতে যদিও স্ত্রী এর প্রতি কামভাব কিন্ত মেয়ের দিকে কামভাব না থাকলেও স্পর্শ লাগলে হুরমতে মুসাহারা হয়ে যাবে।
এখন আমার প্রধান প্রশ্ন হল কোনটা সঠিক এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি,ফাতওয়ায়ে শামী নাকি আলমগীরী?বর্তমানে আমি আপনার দেওয়া মাসয়ালা এবং ফতওয়ায়ে শামী এর মতামত মেনে চলছি, সকল দিক ও গ্রহনযোগ্যতা বিবেচনা করে।
আমি কি সঠিক দিকেই আছি যে হুরমতে মুসাহারা হতে হলে মেয়েকে যদি স্পর্শ করা হয়, তাহলে মেয়ের প্রতি সহবাস বা কামবাবের নিয়তে থাকতে হবে অন্য কারো প্রতি থাকলে হবে না?একটু বুঝিয়ে বলবেন দয়া করে মুফতি সাহেব?
প্রশ্ন ২:শ্বশুর কর্তৃক পুত্র বধুকে কামভাব ও সহবাসের নিয়তে স্পর্শ করার পর যদি হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হয়ে যায়।এমন অবস্থায় যদি শ্বশুর হুরমত সম্পর্কে না জানে এবং হুরমত সাব্যস্ত হওয়ার পর ও তার ছেলে এবং ছেলের বৌ সংসার করতে থাকে এবং ১০ বছর পর গিয়ে ছেলের বৌ মারা যায়।ছেলের বৌ মারা যাওয়ার পর, শ্বশুর যদি জানতে পারে হুরমতে মুসাহারা সম্পর্কে এবং এটা ও জানতে পারে যে তার কারনে তার ছেলে এবং ছেলের বৌ এর হালাল সম্পর্ক নস্ট হয়ে গিয়ে তারা অবৈধ ভাবে বসবাস করেছিল।
এক্ষেত্রে শ্বশুর জানার পর শ্বশুর এর কি করনীয়?শ্বশুর ত এখন ভুল বুঝতে পারছে।
তার ছেলে ও ছেলের বৌ এর সম্পর্ক অবৈধ হওয়ার পর ও যে একসাথে থেকেছে এতে করে ত জিনার গু না হয়েছে,তাহলে এখন এই গুনার দায় ভার কার, শ্বশুরের নিতে হবে নাকি?শ্বশুর এর এখন কি করা প্রয়োজন, তার ছেলের কাছে ক্ষমা চাইবে নাকি আল্লহর কাছে ক্ষমা চাইবে?
একটু সহজ করে সমাধান দিবেন কারন ছেলের কাছে ক্ষমাই চাইবে কিভাবে আর এগুলো কিভাবে বলবে, লজ্জার বিষয়।
প্রশ্ন ৩:কোনো ব্যাক্তি যদি অন্য কোনো স্বামী এবং স্ত্রী এর সহবাসে মিলনের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে গিয়ে দেখে,এবং স্বামী ও স্ত্রী ঐ ব্যাক্তিকে দেখে ফেলার পর ব্যাক্তিটি চলে যায়।পরবর্তীতে ব্যাক্তিটি তার অপরাধ বুঝতে পারে।এতে করে ব্যাক্তিটি কি বান্দার হক নস্ট করেছে? এখন এই অপরাধ এর কারনে কি স্বামী ও স্ত্রী এর কাছে ক্ষমা চাইবে নাকি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে?স্বামী ও স্ত্রী এর কাছে ত ক্ষমা চাওয়া লজ্জার বিষয় এক্ষেত্রে সহজে কিভাবে ক্ষমা পেতে পারে একটু সমাধন দেন?
মুফতি সাহেব দয়া করে সমাধানগুলো দেন, এখানে ৩ টা প্রশ্নের ভিতরেই অনেকগুলো প্রশ্ন করে ফেলেছি, দয়া করে সবগুলো উত্তর ই একটু বুঝিয়ে দিয়েন।