আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
23 views
ago in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (8 points)
১.হানাফি মাযহাবে সিজদাহ তে পা একত্রে লাগিয়ে রাখা সুন্নাত নাকি পা ফাকা রাখা সুন্নাত? হাদিসসহ

২.হানাফি মাযহাবে কি হাটুতে হাত রেখে সিজদাহ্ তে যেতে হয় নাকি সরাসরি হাত মাটিতে রেখে পরে সিজদাহ্ করবো?কোনটা সহিহ?

৩.ঘুম থেকে উঠার পর কি হাত নাপাক থাকে?পাক করার বিধান কি?

৪.প্রস্রাবের পর টিস্যু ধরে  ফোটা পড়া বন্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা  করে টিস্যু ফেলে দিলেই কি পবিত্র হয়ে যাবো নাকি পরে ওই টিস্যু দিয়ে লজ্জাস্থান টা আবার মুছতে হবে?

৫,প্রস্রাবের পর ফোটা পড়া বন্ধ হওয়ার পর লিঙ্গে কয়বার পানি ঢালবো? ১ বার নাকি৩ বার?এই ক্ষেত্রে টিস্যু ব্যবহার না করে শুধু পানিই দিতে চাই।

৬.প্রস্রাবের পর শুধু লিঙ্গের উপরে  পানি ঢাললেই হবে নাকি হাতে করে হালকা ঘষতে ঘষতে পানি ঢালতে হবে?

৭.প্রস্রাবের পর লিঙ্গে কতটুকু পানি ঢালবো? কারণ অনেকে লিটারের পর লিটার পানি ঢালে?আমার পরিবারের একজন এমন করে। আমি তো এইগুলা জানি না তাই জানলে ওকে বলবো এইগুলো।

৮.ফরয গোসলে হাত ধুয়ে, নাপাকি দূর করে,অজু করার পর কি মাথায় ৩ বার পানি দিতে হয় নাকি ডানে -বামে ৩ বার পানি দিতে হয়?কোনটা আগে?

৯.কোনো কাগজে আল্লাহ, বাংলা, ইংরেজি বা আরবিতে লেখা থাকলে তা ফেলে দিলে কি গোনাহ হবে?

1 Answer

0 votes
ago by (769,890 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী নামাজে সেজদায় পা ফাক রাখা সুন্নাত।
তবে উভই পা মিলিয়ে নামাজ পড়ার ছুরতও জায়েজ  আছে।
কোনো সমস্যা নেই। 
(ফাতাওয়ায়ে মারগুবুল ফাতওয়া ২/১১৬) 

হযরত আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘এক রাত্রিতে আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বিছানায় না পেয়ে আমার হাত দিয়ে খুঁজতে থাকলাম। অতঃপর আমার হাত তাঁর দু’পায়ের উপর পতিত হয়। তখন তিনি সিজদারত ছিলেন এবং তাঁর পা দু’টি খাঁড়া ছিল’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৮৯৩,

 ‘সিজদা ও সিজদার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ)। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘এ সময় তাঁর গোড়ালীদ্বয় মিলানো ছিল এবং পায়ের অঙ্গুলি সমূহ কিবলার দিকে ছিল’ (মুস্তাদরাক হাকেম ১/৩৪০ পৃঃ, হা/৮৩২; ছহীহ ইবনু খুযায়মাহ হা/৬৫৪, ইবনু হিববান হা/১৯৩৩)। 

ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আমি সাত অঙ্গের উপর সিজদা করতে আদিষ্ট হয়েছি। নাকসহ চেহারা, দু’হাত, দু’হাটু এবং দু’পায়ের আঙ্গুলসমূহের অগ্রভাগ’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৮৮৭)। 

হযরত বারা রা. বর্ণনা করেন যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রুকুতে যেতেন, তখন পায়ের আঙ্গুলগলোকে এমনভাবে কিবলামূখী করাইতেন যে, উভয় পায়ের মাঝখানে ফাঁকা থাকত। (বাইহাকী)

বিস্তারিত জানুনঃ 
,
★সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত  সিজদার  সময় উভয় পায়ের মাঝে যেহেতু ফাকা রাখা সুন্নাত,তাই উভয় পায়ের  গোড়ালির মাঝে ফাকা রাখাও সুন্নাত।
তবে মিলিয়ে রাখাও জায়েজ আছে।   

(০২)
হাটুতে হাত রেখে সিজদাহ্ তে যেতে হয়।

(০৩)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي رَزِينٍ وَأَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ فَلَا يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ " . - صحيح

আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ রাত্রে জাগ্রত হলে সে যেন নিজের হাত তিনবার না ধুয়ে (পানির) পাত্রে হাত ডুবিয়ে না দেয়। কারণ তার জানা নেই (ঘুমের অবস্থায়) তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে।
মুসলিম (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, ৩/১৮১ নাবাবী), আহমাদ (২/২৫৩, ৪৭১) আবু দাউদ ১০৩)

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلاَ يُدْخِلْ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لاَ يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ أَوْ أَيْنَ كَانَتْ تَطُوفُ يَدُهُ "

আহমাদ ইবনু আমর .............. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যখন তোমাদের কেউ ঘুম হতে জাগ্রত হয়, তখন সে যেন স্বীয় হস্ত তিনবার ধৌত করার পূর্বে পাত্রের মধ্যে প্রবেশ না করা। কেননা তোমাদের কেউ জানে না (ঘুমন্ত অবস্হায়) তার হাত কোথায় ছিল অথবা তার হস্ত কোথায় কোথায় ঘুরছিল-
(আবু দাউদ ১০৫)

★★হাদীসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছেঃ
এ হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মাতকে পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা শিক্ষা দিয়েছেন। হাদীসের মধ্যে বিষয়টি এভাবে এসেছে যে, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর পানির পাত্রে হাত প্রবেশ করানো যাবে না; কারণ জাগ্রত ব্যক্তি জানে না যে, রাতের বেলায় তার হাত কোথায় ছিল। 

এজন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। তাই ঘুম থেকে উঠে আগে হাত ধুয়ে নেয়া পরিচ্ছন্নতা ও রুচির পরিচায়ক। মূলকথা হলো এই যে, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর হাত ধোয়া ছাড়া পানির পাত্রে হাত প্রবেশ করানো মাকরূহ।

 হাতে নাপাকী থাকা নিশ্চিত হলে অবশ্যই হাত ধুয়ে নিতে হবে এবং নাপাক কিছু না থাকলেও পানির পাত্রে হাত প্রবেশের পূর্বে ধুয়ে নেয়া মুসতাহাব।
,
★ ঘুম থেকে উঠে হাত নাপাক থাকেনা।
তবে ঘুমের মধ্যে হাতে নাপাকি লাগার সম্ভাবনা থাকতে পারে, তাই ধোয়ার কথা বলা হয়েছে।
,
আরো জানুনঃ

৪.প্রস্রাবের পর টিস্যু ধরে  ফোটা পড়া বন্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে টিস্যু ফেলে দিলেই হবে।

তবে উক্ত স্থান ধুয়ে ফেলা উত্তম।

(০৫)
একবার পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুয়ে নিবেন। 

(০৬)
শুধু পানি ঢাললেই হবে।

(০৭)
যতটুকু পানি ঢাললে আপনি নিশ্চিত হন যেন নাপাকি চলে গিয়েছে, ততটুকু পানি ঢালবেন।

এক্ষেত্রে ৫০-১০০ গ্রাম পানি ঢালা যথেষ্ট। 

(০৮)
আগে মাথায় পানি ঢালবেন।

বিস্তারিত জানুনঃ- 
হ্যাঁ গুনাহ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...